যদি কেউ জেনে-বুঝে কোনো অসৎ বা দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে এমপি/মন্ত্রী বানায়, আর সে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের হক নষ্ট করে—তাহলে কি ভোটদাতা সেই পাপের অংশীদার হবে?

 

ভুমিকাঃ

 একজন ভোটার কি পাপের অংশীদার হবে যদি সে জেনে–বুঝে কোনোঅসৎ বা দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে এমপি/মন্ত্রী বানায়, এবং পরে সেই ব্যক্তি জনগণের হক নষ্ট করে?
ইসলামী নীতির আলোকে উত্তর হলো:
👉দি কেউ জেনে-বুঝে একজন অসৎ, দুর্নীতিবাজ বা অযোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেন,
👉 এবং সেই ব্যক্তি ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের হক নষ্ট করে, দুর্নীতি করে—
তাহলে ভোটদাতা তার সহযোগিতার ফলে পাপের অংশীদার হতে পারেন।
তবে অজ্ঞতা, প্রতারণা, ভুল তথ্য, বা ভয়-জবরদস্তি—এগুলো থাকলে বিধান ভিন্ন হতে পারে।

১) পাপ ও সীমা লঙ্ঘনে সহযোগিতা করা নিষিদ্ধ

সূরা আল-মায়িদা ৫:২—এই নীতির ওপর ভিত্তি করেই মূল বিষয়টি দাঁড়ায়।
📖 কুরআনের আয়াত:
﴿ وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ ﴾
(সূরা আল-মায়িদা, ৫:২)
অর্থ:
“সৎকর্ম ও তাকওয়ায় একে অপরকে সহযোগিতা করো, কিন্তু পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতা করো না…”
🔎 ব্যাখ্যা:
ভোটের মাধ্যমে কোনো দুর্নীতিবাজকে ক্ষমতায় বসানো মানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা ও সুযোগ দেওয়া, যা তার অন্যায়কর্মের ভূমিকা তৈরি করে। এটি “ইস্‌ম ও উদওয়ান”—পাপ ও সীমালঙ্ঘনে সহযোগিতার মধ্যে পড়ে।

২️) অসৎ বা দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়াঃ

আমানতের খেয়ানত ভোট হলো শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি আমানত।
📘 হাদিস:
রাসুল ﷺ বলেন:
“যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।”
জিজ্ঞেস করা হলো: “অমানত নষ্ট বলা কাকে?”
তিনি বললেন:
“যখন অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
— (সহীহ বুখারী, হাদিস ৬৪৯৬)
🔎 ব্যাখ্যা:
যে ভোটার জানে—

  1. প্রার্থী দুর্নীতিবাজ
  2. অসৎ
  3. অযোগ্য

তবুও তাকে দায়িত্ব দেয়—
তাহলে সে আমানতের খেয়ানতকারী হিসেবে দায়ী হবে।

৩) অন্যায়ের ভিত্তি স্থাপনে অংশীদার হলে পাপ ভাগ হয়ঃ

ইসলামী ফকিহ ও উসূল আল-ফিকহের নীতিতে আছে:
👉 যে ব্যক্তি কোনো পাপের সূচনা করে বা সহায়তা করে, সেই পাপ চলমান থাকা পর্যন্ত অংশীদার হয়।
একদম স্পষ্ট হাদিস:
“যে ব্যক্তি ভালো কাজের দাওয়াত দেয় সে তার ও আমলকারীর সওয়াব পায়।
আর যে খারাপ কাজের দাওয়াত দেয় সে তার ও আমলকারীর পাপ পায়।”
— সহীহ মুসলিম
এখানে “দাওয়াত দেওয়া” বলতে পথ তৈরি করা এবং সহযোগিতা করাও অন্তর্ভুক্ত।

🔚 উপসংহার:

 হ্যাঁ — যদি কোনো ভোটার সচেতনভাবে, জেনে-বুঝে, যাচাই-বাছাই না করে কিংবা স্বার্থের কারণে একজন দুর্নীতিবাজ বা অসৎ ব্যক্তিকে ভোট দেন, এবং সেই ব্যক্তি পরে মানুষের হক নষ্ট করে, তবে ভোটদাতা সেই পাপের অংশীদার হবেন।
ইসলাম ন্যায়বিচার ও অভিপ্রায়ের ওপর অনেক গুরুত্ব দেয়।
প্রতিটি মুসলিম ভোটারের উচিত:
১) প্রার্থীর সততা যাচাই করা,
২) যোগ্যতা খোঁজা,
৩)। আমানতদার মানুষকে ভোট দেওয়া।
এটাই কুরআন-সুন্নাহর নীতি।

Newest
Previous
Next Post »